ভাষা শ্রবণ ও কথনের ভূমিকা (Role of Listening and Speaking in Language Learning)
শুধু মাতৃভাষা নয়। যে-কোনো ভাষা শিক্ষাদান ও ভাষা শিক্ষণের দ্বারা জ্ঞানের প্রয়োগ মূলত চারটি নৈপুণ্য অর্জনের উপর নির্ভর করে, যেমন-
- ১। কথা শুনে বোঝা।
- ২। কথা বলে অন্যকে বোঝানো।
- ৩। লিখিত রূপ পড়তে পারা।
- ৪। লিখিত রূপ প্রকাশ করতে পারা।
শোনা, বলা, পড়া ও লেখা ভাষা দক্ষতার এই চারটি দিক অবশ্যই কোনো ব্যক্তির বা শিক্ষার্থীর মানসিক, সামাজিক ও চারিত্রিক বিকাশ সার্থকভাবে পরিণত করে। এই চারটি নৈপুণ্যই একে অপরের উপর নির্ভরশীল ও পরিপুরকও বটে।
শ্রবণ বা শোনা
মনোযোগ সহকারে কোনো কিছু শোনাকেই শ্রবণ বলে। যে-কোনো ভাষায় শ্রবণের ক্ষেত্রে মনোযোগ ব্যাপারটি খুবই প্রয়োজনীয়। শ্রবণের দক্ষতা কেবল অন্য মানুষের কথা শুনতেই সাহায্য করে না, শ্রবণ মানুষকে পরিষ্কার কথা বলতেও সাহায্য করে। সে সঠিক উচ্চারণ শেখে। গবেষণায় লক্ষ করা গেছে একজন ব্যক্তির জীবনের অর্ধেক সময় ব্যয়িত হয় শ্রবণ কার্যে।
শ্রবণকার্যকে ২টি ভাগে ভাগ করা যায়- ১। একপাক্ষিক শ্রবণ ২। দ্বিপাক্ষিক শ্রবণ।
একপাক্ষিক শ্রবণ
উৎস → বার্তা → শ্রোতাপ্রেরক → যোগাযোগ → গ্রাহক
- উদাহরণ: (ক) রেডিয়ো, দূরদর্শন থেকে আগত শব্দ (খ) টেলিফোন দফতরের রেকর্ড করা বক্তব্য (গ) শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের বক্তৃতা (ঘ) পরীক্ষার সময়সূচি শ্রবণ।
দ্বিপাক্ষিক শ্রবণ
বক্তা ← বার্তা → শ্রোতা১ম পর্যায় প্রেরক → যোগাযোগ → গ্রাহক
প্রেরক ২য় পর্যায়
- উদাহরণ: দ্বিপাক্ষিক যোগাযোগ যেখানে ঘটেছে। বক্তা-শ্রোতা উভয়েই ভাবের আদানপ্রদান করেছে। পরিস্থিতির তারতম্যের ভিত্তিতে সেই শ্রবণের গুরুত্বেরও হেরফের হয়। শ্রোতাকে বস্তার অভিপ্রায় বুঝে উত্তর দিতে হয়।
শোনার গুরুত্ব
শোনা দিয়ে শুরু হয় জানার সূচনা। তাই কোনো কিছু জানতে হলে প্রথমে শুনতে হয়। তাই জানার ক্ষেত্রে শোনার গুরুত্ব অত্যধিক। গৃহ পরিবেশে বাস করতে করতে শিশু এটা ওটা শুনে শুনে শেখে। তাই ভাষা শিক্ষণের প্রথম স্তরে শিক্ষার্থী যাতে অন্যের কথা শুদ্ধ ও স্পষ্টভাবে শোনার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারে সেদিকে নজর দিতে হবে। কারণ শোনার মুখ্য উদ্দেশ্য হল শব্দ বা বাক্যগুলি মনোযোগ দিয়ে শোনা, অনুধাবন করা ও প্রয়োজন বোধে তা প্রয়োগ করতে শেখা।
শিখন-শিক্ষণ প্রক্রিয়ায় শিশুদের বক্তৃতা, আলোচনা, শিক্ষক-শিক্ষার্থীর প্রশ্নোত্তর পর্ব, বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। তাই শিক্ষার্থীদের শ্রবণশক্তির সঠিক বিকাশের জন্য এইসব অনুষ্ঠানে যোগদান জরুরি। শিক্ষকের উচ্চারণ স্পষ্ট, সাবলীল ও বাচনশক্তি যথাসম্ভব সুন্দর হওয়া দরকার। শিক্ষকের শব্দ যোজনা, শব্দক্ষেপণ কৌশল, স্বরের সূক্ষ্ম কারুকার্যে ভাবাবেগ ও চিন্তার ধ্বনিময় প্রকাশ, মুখমন্ডলে বিচিত্র রসানুভূতির স্বাভাবিক অভিব্যক্তি প্রভৃতির প্রতি নজর দেওয়া দরকার।
- ৬। শিক্ষকের বাচনভঙ্গি: শিক্ষকের বাচনভঙ্গি যদি সুন্দর হয় তবে ছাত্ররা স্বভাবতই অমনোযোগী হয় না।
- ৭। শিক্ষা-উপকরণ ব্যবহার: শিক্ষাদানকালে উপযুক্ত শিক্ষা সহায়ক উপকরণ প্রযুক্ত হলে ছাত্ররা পাঠে মনোযোগী হয়।
- পরিবেশ তৈরি: শিক্ষকের পাঠদান ও করা জরুরি।
- ৯। শিক্ষকের ব্যক্তিত্ব: শিক্ষকের শিক্ষকসুলভ ব্যক্তিত্ব না থাকলে তিনি শ্রেণিকক্ষে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে পারবেন না। সেজন্য শিক্ষকের বলিষ্ঠ ব্যক্তিত্বের অধিকারী হওয়া দরকার।
- ১০। শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকের বিভিন্ন কাজ: বিষয়ের পাঠদান, বোর্ডের কাজ, শিক্ষা উপকরণ ব্যবহার, প্রশ্নোত্তরধর্মী শিক্ষাদান প্রভৃতি শিক্ষককে এমনভাবে করতে হবে, যেন পড়ানোর স্বতঃস্ফূর্ততা ব্যাহত না হয়। এটি শিক্ষক খুব সাবধানে সম্পন্ন করবেন।
বলা বা আদর্শ কথন
শিশু তার কথা শেখার বয়স থেকেই ভাষার মৌখিক অনুশীলন হয়। শিক্ষিত পিতামাতা অবশ্য শিশুর সুষ্ঠ উচ্চারণের দিকেই লক্ষ রাখেন। পরে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা কথা বলতে দক্ষ হয়ে ওঠে। কথা বলার একটি বিশেষ দিক হল সুষ্ঠু উচ্চারণে ধ্বনির ওঠা-নামা বজায় রেখে কথা বলার অভ্যাস তৈরি করানো। পরবর্তী জীবনে এই কৌশল ব্যক্তিমানুষকে বিশেষভাবে প্রভাবিত করে। অবশ্য মৌলিক ভাষা মানুষ জন্মসূত্রে পেলেও সুষ্ঠুভাবে কথা বলার জন্য যথেষ্ট শিক্ষা ও অনুশীলনের প্রয়োজন আছে।
মা-বাবা বা পরিবারের সদস্যরা শিশুকে ধীরে ধীরে নতুন নতুন শব্দ ব্যবহারে অভ্যস্ত করে তোলেন। শিশু মূলত এই শব্দ শোনে একেবারে পরিচিত পরিবেশ থেকে, যেমন-নতুন জিনিসপত্র বা আসবাবপত্র বা খাদ্যবস্তুর নাম ও একান্তজনের সম্পর্কের সূত্র হিসেবে। একটি শব্দ যখন সে বারবার ভুল করছে, তার ভুল শোধরানোর সূত্র ধরেই তার ভাষা অনুশীলনের পাঠ শুরু হয়। আর প্রথাগতভাবে ভাষা শিক্ষাদানের প্রক্রিয়া শুরু হয় বিদ্যালয় পর্বে।
মূলত গৃহপরিবেশে আমরা আঞ্চলিক ভাষা ব্যবহার করি। সেগুলি শিশুরা অজ্ঞাতে শিখে ফেলে ও ব্যবহার করতে শেখে। একবার শিখে ফেলা শব্দকে ভুলে যাওয়া একটু কঠিন হয়। যেহেতু আঞ্চলিক ভাষা সর্বজনবোধ্য নয় তাই এতে উচ্চারণের শুদ্ধতা থাকে না, সেজন্য এটিকে কষ্টসাধ্য হলেও পরিহার করা জরুরি।
কথা বলার দক্ষতা অর্জন
কথা বলার দক্ষতা অর্জনের ক্ষেত্রে নিম্নোক্ত দিকগুলির দিকে বিশেষ নজর রাখা জরুরি-
- শব্দ নির্বাচন
- ধ্বনির যথাযথ বা সুস্পষ্ট উচ্চারণ
- যথাযথ বাক্য গঠন
- প্রয়োজনীয় যুক্তি, তর্ক ও দৃষ্টান্ত উপস্থাপন
- বক্তব্য বিষয়ের প্রাসঙ্গিকতা ও উপযোগিতা
- সাজিয়ে কথা বলার যোগ্যতা অর্জন
- যথাযথ স্বরক্ষেপণ।
বিশেষ বিশেষ ক্ষেত্রে অবশ্য বেশ কয়েকটি নিয়মরীতি মেনে চলতে হয়।
ভালো কথাবার্তা শেখানোর কৌশল
- (ক) কথোপকথন: কথোপকথনের মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের মুখের ভাষার ভুল প্রয়োগকে চিহ্নিত করে শুদ্ধরূপ শেখানো।
- (খ) আলোচনা: আলোচনা করার সময় কোনো শিক্ষার্থী আঞ্চলিক বা কোনো অসংগত শব্দ ব্যবহার করলে তা শুধরে দেওয়া দরকার।
- (গ) বক্তৃতা: বক্তৃতাকালে কোনো অশিষ্ট শব্দ বা অপ্রচলিত শব্দ ব্যবহৃত হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে লক্ষ দেবেন শিক্ষক।
- (ঘ) সরব পঠন: শ্রেণিকক্ষে সরব পাঠকালে শিক্ষার্থীদের উচ্চারণ যথাযথ হচ্ছে কিনা তা দেখতে হবে। পাঠের সময় যেন বিষয়ের ভাব ও আবেগ ঠিক রেখে পড়তে পারে সেদিকেও লক্ষ দিতে হবে।
- (ঙ) আবৃত্তি: আবৃত্তি করাকালীন উচ্চারণের কোনো ভুলত্রুটি নজরে পড়লে তা সংশোধন করে দিতে হবে।
- (চ) নাটকের সংলাপ: নাটকের সংলাপ উচ্চারণের সময়ে শব্দ ঠিকমতো উচ্চারিত হচ্ছে কিনা, মুখের ভাবভঙ্গি ও অঙ্গভঙ্গি ঠিক হচ্ছে কিনা তাও নজর রাখা জরুরি।
- (ছ) ছড়া: ছড়া পরিবেশনকালে যাতে নির্দিষ্ট ছন্দ, বাভঙ্গিমা বজায় থাকে তা দেখতে হবে।
- (জ) অনুষ্ঠান পরিচালনা ও ঘোষণা: অনুষ্ঠান পরিচালনা ও ঘোষণার সময় যথাযথ রীতি মেনে পরিবেশন বাঞ্ছনীয়। এক্ষেত্রে অনুরোধ জ্ঞাপন, অভ্যর্থনা জ্ঞাপন, দুঃখপ্রকাশ, ধন্যবাদ প্রদান প্রভৃতি যথাযথভাবে করা আবশ্যক।
- (ঝ) গল্প পরিবেশন: গল্প, রূপকথা প্রভৃতি পরিবেশনের একটি বিশেষ রীতি অবলম্বন করা হয়। যেমন সে অনেক অনেক দিনের কথা। বা এক ছিলেন মস্ত... বড়ো রাজা আবার ভুতের গল্প বলার সময় ছমছমে পরিবেশ তৈরি করে কথার বিনুনি সাজিয়ে গল্প বলতে হবে। গল্প কথনের এই স্টাইলটি আয়ত্ত করা জরুরি।
- (ঞ) সাধু ও চলিত রীতির ব্যবহার: কথা বলা বা কোনো আলোচনার সময় যাতে তারা সাধু রীতির সঙ্গে চলিত রীতি মিশিয়ে না ফেলে সেদিকে দৃষ্টি দিতে হবে। কোথায় তাদের ভুল হচ্ছে তাও বিশেষভাবে দেখিয়ে দিতে হবে।
একটি কথা মনে রাখা দরকার, শৈশব থেকেই ভাষা ব্যবহার সম্পর্কে যত্ন নেওয়া হলে এক সময় তারা ভাষা ব্যবহারে নৈপুণ্য অর্জন করতে পারে। এসব দীর্ঘ অনুশীলন ও ধৈর্য সাপেক্ষ।
নির্ভুল বর্ণ ও শব্দ উচ্চারণের অভ্যাস গঠন
নির্ভুল বর্ণ ও শব্দ উচ্চারণ শেখার জন্য নিম্নোক্ত বিষয়টি শেখা জরুরি-
- স্বরধ্বনির উচ্চারণ: ইহ্রস্ব-ই; ঈ দীর্ঘ-ঈ; উহ্রস্ব-উ; উ দীর্ঘ-ঊ।
- ব্যঞ্জনধ্বনির উচ্চারণ: জ (বর্গীয় জ), ণ-মূর্ধন্য-ণ; ন দন্ত্য-ন; শ-তালব্য-শ, স দন্ত্য-স, য-মূর্ধন্য-ষ।
যুক্তবর্ণের উচ্চারণ
- ক্ক = ক + ক - নাম কয়ে ক। যেমন-ধাক্কা, বৃক্ক, কুকুর।
- ক্ব = ক + ব - নাম কয়ে ব। যেমন-পক্ক।
- ক্ষ = ক + ষ - নাম কয়ে মূর্ধন্য ষয়ে খিও। যেমন-যক্ষ, রক্ষ।
- হ্ম = হ + ম - হ য়ে ম। যেমন-ব্রহ্ম, ব্রাহ্মণ।
- জ্ঞ = জ + ঞ – নাম বর্গীয় জ য়ে ইয়ো। যেমন-জ্ঞান, প্রজ্ঞা, অজ্ঞান।
- ঞ্জ = ঞ + জ – নাম ইয়োয় বর্গীয় জ। যেমন-খঞ্জ, গঞ্জ।
- ঞ্চ = ঞ + চ - নাম ইয়োয় চ। যেমন-চঞ্চল, পঞ্চম, অঞ্চল।
- ঞ্ছ = ঞ + ছ - নাম ইয়োয় ছ। যেমন-বাঞ্ছা, লাঞ্ছনা।
- ঞ্ঝ = ঞ + ঝ - ইঁয়োয় ঝ। যেমন-ঝঞ্ঝা, ঝঞ্ঝাট।
- ট্ট = ট + ট - নাম ট য়ে ট। যেমন-চট্টগ্রাম, হট্টগোল, কট্টর।
- ট্র = ট্ + র - নাম টয়ের ফলা। যেমন-উষ্ট্র, রাষ্ট্র, ট্রেন।
- ত্ত = ত + ত – নাম ত য়ে ত। যেমন-চিত্ত, বিত্ত, মত্ত।
- ক্ত = ক + ত - নাম কয়ে ত। যেমন-যুক্ত, রক্ত, শক্ত।
- ত্ন = ত + ন - নাম ত য়ে দন্ত্য ন। যেমন-যত্ন, রত্ন, প্রত্ন।
- ত্ম = ত + ম - নাম তয়ে ম। যেমন-আত্মা, মারাত্মক। লক্ষণীয় 'ত'-এর সঙ্গে মূর্ধন্য-ণ মিলে কোনো যুক্তাক্ষর তৈরি হয় না।
- ত্র = ত + র - নাম তয়ের ফলা। যেমন-তত্র, পাত্র, মিত্র।
- ত্রু = ত + র + উ - নাম তয়ের ফলা হ্রস্ব উ-কার। যেমন-শত্রু, ত্রুটি।
- ক্র = ক + র - নাম কয়ের ফলা। যেমন-চক্র, বক্র, ক্রয়।
- হ্ব = হ + ব - যেমন-বহু, হুংকার।
- ত্থ = ত + থ - নাম ত য়ে থ। যেমন-উত্থান, অশ্বত্থ।
- দ্ব = দ + ব - নাম দয়ে বফলা। যেমন দ্বন্দ্ব, বিদ্বান, বিদ্বেষ।
- দ্ধ = দ + ধ - নাম দ য়ে ধ। যেমন-বদ্ধ, উদ্ধার।
- গ্ধ = গ + ধ - নাম গয়ে ধ। যেমন-দগ্ধ, মুগ্ধ।
ম্যাক্রো লেসন প্ল্যান (Macro Lesson Plan)
- বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনার সাহায্যে শ্রেণিকক্ষে সংগঠিত হওয়া সকল কার্যক্রমের যাবতীয় বিবরণী লিপিবদ্ধ করা যায়।
- পাঠদানের বৃহৎ পরিকল্পনায় শিখন শেখানোর সব ধরনের পদ্ধতি ও কৌশল প্রয়োগ করা যায় বলে শিক্ষা গবেষকদের মতামত পাওয়া গেছে।
- শিখনফল টেকসই করার জন্য পাঠদানের জন্য উৎস ও নির্দেশনা সামগ্রী সম্পর্কে বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনায় বিস্তারিত আকারে ফুটিয়ে তোলা যায়।
- শিখন শেখানো কার্যক্রমে উদ্ভুত হতে পারে এমন সমস্যা সম্পর্কে আনুমানিক সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
- সমস্ত পাঠ্যবিষয় ও বিষয়বস্তুর জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি ও কৌশল ব্যবহারের সাধারণ সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।
- পদ্ধতি ও কৌশল ও শিখনফলের কার্যকারিতা মূল্যায়ন করা যায় বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনার মাধ্যমে।
ম্যাক্রো লেসন প্ল্যান এর অসুবিধা বা সীমাবদ্ধতা
- যেহেতু ম্যাক্রো লেসন প্ল্যান হলো এক দীর্ঘ পরিকল্পনা এবং একসঙ্গে শ্রেণীকক্ষের সকল শিক্ষার্থীদের জন্য তৈরী করা হয়ে থাকে তাই অনেক সময় এই পরিকল্পনায় শ্লথ ধীর শিক্ষার্থীরা (Slow Learner) কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হয়ে থাকে।
- বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে অপেক্ষাকৃত বেশি সময়ের প্রয়োজন হয়।
- বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনা উল্লেখিত পদ্ধতি ও কৌশল অনেক সময় প্রয়োগের অনুপযোগী হয়।
- শিক্ষকদের আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সক্ষম বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনা।
- বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য কখনো কখনো ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনার সাহায্য নিতে হয়।
ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা বা অনু পাঠটিকা বা মাইক্রো লেসন প্ল্যান
মাইক্রো লেসন প্ল্যান কী?
ইংরেজি মাইক্রো (micro) শব্দের উৎপত্তি হয় গ্রিক ভাষার শব্দ মিক্রোস (mikros) থেকে যার বাংলা প্রতিশব্দ হলো- সংক্ষিপ্ত, ক্ষুদ্র বা অনু। কোনো নির্দিষ্ট শ্রেণির নির্দিষ্ট পাঠ্যবিষয় থেকে কোনো নির্দিষ্ট দিন ও সময়ে যতটুকু পাঠদান করা হবে ততটুকুর শিখন-শেখানোর যে কৌশলগত পরিকল্পনা করা হয় তা হলো ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা বা মাইক্রো লেসন প্ল্যান (micro lesson plan)। ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা 'অনুপাঠ টিকা' নামেও পরিচিত। ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা বেশিরভাগ ক্ষেত্রে শিক্ষকই প্রণয়ন করে থাকেন।
মাইক্রো লেসন প্ল্যানের উদ্দেশ্য
ম্যাক্রো লেসন প্ল্যান বা বৃহৎ পাঠ পরিকল্পনা যেখানে একটি সেমিস্টার কিংবা একটি শিক্ষাবর্ষে নির্ধারিত পাঠ্যবিষয়ের সকল বিষয়বস্তু কীভাবে শিক্ষার্থীদের পাঠদান করা হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়, সেখানে ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা বা মাইক্রো লেসন প্ল্যানের উদ্দেশ্য হলো নির্ধারিত পাঠ্যবিষয়ের অন্তর্ভুক্ত সুনির্দিষ্ট একটি পাঠ বা পাঠ্যাংশ একদিনের শ্রেণি কার্যক্রমে কীভাবে শেখানো হবে তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হয়।
ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনার উদ্দেশ্য হলো দৈনিক পাঠদান প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে সম্পাদন করা। উপযুক্ত পন্থা অবলম্বন করে সাধারণত দৈনিক শ্রেণি কার্যক্রমে শিক্ষার্থীদেরকে নির্ধারিত পাঠ কিংবা পাঠ্যাংশের শিখনফল অর্জনে সহায়তা করা এবং অগ্রগতি মূল্যায়ন করে তাৎক্ষণিকভাবে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করার জন্য ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা বা অনু-পাঠটিকা করা হয়।
মাইক্রো লেসন প্ল্যানের সুবিধা
ক্ষুদ্র পাঠ পরিকল্পনা প্রণয়ন করা হলে যে সকল সুবিধা পাওয়া যায় তা হলো-
- সমগ্র পাঠ্যবিষয় থেকে শিখন শেখানো কার্যক্রমের জন্য দৈনিক পাঠ বা পাঠ্যাংশ সহজেই নির্ধারণ করা যায়।
